উদ্ভিদের বিবর্তনধারা

বিবর্তন। কথাটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটা লোমশ বানর সে হাঁটতে-হাঁটতে বড় বড় দাড়ি চুল ওয়ালা মানুষের পরিণত হলো। কি? তাইনা??? আসলে এটাই কি বিবর্তন???স্যার চার্লস ডারউইন কি এই বিবর্তন এ কথা বলেছিলেন?? মোটেই তেমনটা নয়, আমরা একটা ভুল ধারণার মধ্যে বাস করছি।

সে যাই হোক, আজকে আমরা একটু অন্য কিছু দেখব। উদ্ভিদের বিবর্তন।

আসলে জীবের বিবর্তন হল কোন জীবের দৈহিক কিংবা অঙ্গসংস্থানিক ধারাবাহিক পরিবর্তন। যা দু রকম হতে পারে। কখনো জীব সরল প্রকৃতির থেকে পরিবর্তিত হয়ে জটিল প্রকৃতির দিকে ধাবিত হয়,। আবার কখনও কখনও জীবের বিবর্তন হয় বিপরীত দিকে। অর্থাৎ জটিল শারীরিক, দৈহিক গঠন থেকে সরল প্রকৃতির দিকে যায়।

সাধারণভাবে বিজ্ঞানীরা জীবের সরল গঠন প্রকৃতি থেকে জটিল গঠন প্রকৃতির দিকে ধাবমান হবার ক্রমবিন্যাস বা পরিবর্তনের বিবর্তনের মতবাদ দিয়ে থাকেন। এরপর পেছনে যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত কারণও রয়েছে। তাই বলে যে কখনো জটিল গঠন প্রকৃতির জীব থেকে সরল গঠন প্রকৃতির জীব হয় না সেটাও কিন্তু নয়।

বিবর্তন জানতে হলে আমাদেরকে অনেক অনেক বছর পেছনে চলে যেতে হবে।(গাদা গাদা সাল দিয়ে লেখাটাকে ইতিহাসের প্রবন্ধ বানাতে চাচ্ছি না।) প্রায় বিলিয়ন বিলিয়ন বছর আগে যখন পৃথিবীতে কোন জীবের অস্তিত্ব কিংবা কোন প্রাণের স্পন্দন ছিলো না। আর থাকবেই কিভাবে!!!পৃথিবী তো কেবল গলিত ম্যাগমা থেকে ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে শুরু করেছে । । যখন পৃথিবীর পৃষ্ঠ ছিল চরম উত্তপ্ত। বিভিন্ন মহাজাগতিক উল্কা বয়ে নিয়ে এসেছে পানির ক্রিস্টাল। উদ্ভব হয়েছে সমুদ্রের। বায়ুমণ্ডল বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনো অক্সাইড, মিথেন ফসফরাসের বিষাক্ত গ্যাসে পরিপূর্ণ ছিল । ছিলো না ওজন লেয়ার। সূর্যের আলোর অতি বেগুনি রশ্মির আনাগোনায় পরিপূর্ণ ছিল পৃথিবীপৃষ্ঠ।পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভিন্ন গ্যাস, সমুদ্রের তলদেশ থেকে উত্তপ্ত পানি(ধারনা করা হয় কিছু অগ্নিগিরির অগ্নোৎপাত তখনো সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচের পানিকে গরম রাখত) খনিজ সবকিছু মিলে একটা গরম ঘন স্যুপের মত কিছু একটা ধারণ করে। যা অতি বেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে এসে অ্যামিনো এসিডের মতো কিছু একটা রূপান্তরিত হয়। 1950 সালের দিকে স্যার স্ট্যানলি মিলার তা প্রমাণ করেন। কিছু বিজ্ঞানী এটাও মনে করেন যে উল্কাপাতের সময়  প্রোটিন ও খনিজ উপাদান হিসেবে এসেছিলো।

সে যাই হোক এত ইতিহাস দিয়ে লেখা বড় করবো না। ধরে নিলাম উত্তপ্ত সেই পরিবেশে বিভিন্ন রকমের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে একে একে অ্যামিনো এসিড, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ফ্যাট জাতীয় পদার্থের উৎপন্ন হয়।

এরপর অনেক নাইট্রোজেনের ক্ষার, পেন্টোজ সুগ্যার আর ফরফরাসের এসিড কোন এক প্রক্রিয়ায় সাগরের তলদেশে মালার মতো মিলিত হতে থাকে। আর হ্যাঁ এটাই আদি RNA, যা জীবনের প্রথম কার্যকরী উপাদান হিসেবে স্বীকৃত।আমরা দেখতে পাই কেবল 350 জোড়া নিউক্লিওটাইড নিয়ে ভিরয়েড গঠিত হতে পারে যা জীব দেহে রোগ সৃষ্টিতে সক্ষম। এটার নিজস্ব প্রাণী শক্তি বলে কিছু নেই। তবুও ব্যাপারটা কিন্তু ফেলনা নয়। কিছু একটা ক্ষমতা তো আছে। এটাকে ভাইরাসের জাত ভাই ও বলে কেউ। যদিও এটাতে ভাইরাসের মতো প্রোটিন আবরন নাই। অর্থাৎ ভিরয়েডের চারপাশে যদি একটা প্রোটিনের আবরণ দেওয়া যায় তাহলে সেটা ভাইরাস হয়ে যাচ্ছে। ব্যাপারটা বেশ মজার।

এখন একটু অন্য দিকে আসি। ২টা RNA মিলে DNA হলে এটা কিন্তু সাধারন বিষয়ের মতো। ভাইরাস সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি জানি যে ভাইরাস হল জীব এবং জড়ের সেতুবন্ধন। কারণ আলোচনা করছি না। ভাইরাস এর জীবনী শক্তি নেই কিন্তু এরা সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে (কোষ দেহে প্রবেশ করে)।



0 0 votes
Article Rating

About Md Shariar Khan Foysal

I am a graduate on Agricultural Biotechnology in Eskisehir, Turkey. I dream for a better and pollution free green Earth.

Check Also

Mega Diversity Countries

Warm and humid regions in between the tropics of cancer and Capricorn are provided with …

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x