কামিনি গাছের পাতা।

ঔষধ হিসেবে গাছ গাছড়া খাবো কেনো?

বর্তমানে আমরা আলোপ্যাথিক ঔষধের প্রতি ঝুঁকে পড়েছি। একটু কিছু হলেই প্যারাসিটামল, ডাক্তার, এক গাদা ঔষধ। একটু সুস্থ হয়ে সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবার কিছু না কিছু সমস্যা, আবার ডাক্তার আবার আরো এক গাদা ঔষধ। এতেই শেষ না, ডাক্তার সাহেব বলেও দেন ঔষধটা খেয়ে দেখেন সুট না করলে চেঞ্জ করে অন্য কিছু দিবো।

এত এত ঔষধ খেয়ে বাঁচা যায় নাকি। মাঝে মাঝে তো মনে হয় ছোট বেলা থেকে যে পরিমানে ঔষধ খেয়েছি, পেট চিরে যদি বের করা যেতো তাহলে দিব্যি একটা বড় রকমের ঔষধের দোকান দেয়া যেতো। কিন্তু কি আর করার, রোগ হলে তো ঔষধ খেতেই হয়, আর উপায় কি।

এই যে আমরা অহরহ এত এত ঔষধ খেয়েই যাচ্ছি কেউ কি কখনো চিন্তা করে দেখেছেন আসলে ঔষধ জিনিস টা কি? বা কোন ঔষধ খেলে কোন রোগ সারে এটা কিভাবে এসেছে আমাদের মাঝে।
মনে হয় না কারোর এত চিন্তা করার সময় আছে। সবাই ব্যস্ত মানুষ। কি দরকার এত চিন্তা করার। খাচ্ছি ঠিক হয়ে যাচ্ছি আর কি লাগে, শুধু শুধুই সময় নষ্ট করার প্রয়োজন আছে।

যাক সেসব কথা বাদই দিলাম, ধরে নিলাম সেগুলোর তেমন কোনো প্রয়োজন নাই কিন্তু মাঝে মাঝে ঔষধ ব্যবহারের সময় সাইড ইফেক্টস নামক একটা টেনশন আপনার কাধে চেপে বসে, বসে না? অবশ্যই বসে। ব্যবহার করার আগেই আমরা অল্প হলেও জানার চেষ্টা করি যেই ঔষধটা ব্যবহার করি তাই কি কি সাইড ইফেক্টস আছে। আচ্ছা, ঔষধের সাইড ইফেক্টস থাকে কেনো? এই ভদ্রলোকের হাত থেকে কি বাঁচা যায় না? বা এমন কি কোনো ঔষধ আছে যার কোনো সাইড ইফেক্টস নাই?

আমরা অনেকেই আবার এই সাইড ইফেক্টস এর হাত থেকে বাঁচার জন্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহার করি। মাঝে মাঝে খুব ভালো ফলও পাই। কিন্তু যখন আলোপ্যাথি আর হোমিওপ্যাথি কোনোটাই রোগ সারাতে না পারে তখন কি করা যায় বলুন তো???

কি, দিলাম তো আপনার মনে অনেক অনেক প্রশ্ন জাগিয়ে? সমস্যা নাই তো, এখন জাগিয়ে তোলা সকল প্রশ্নের উত্তরও দিবো, শুধু একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ে যাবেন ।

শুরু করি,
শুরু কি দিয়ে করা যায় বলুন তো?
ও হ্যাঁ, পেয়েছি। একটু ছোট্ট একটা গল্প বলি, এটা দিয়েই শুরু করি।

ছোটবেলায় আমাদের গ্রামে রাস্তার ধারে লতানো কিছু উদ্ভিদ দেখা যেতো। দেখতে খুব সুন্দর পাতাগুলাতে অনেক অনেক রোম, ফুলগুলো হতো হলুদ হলুদ আর ফলগুলো ত্রিকোনাকার। হঠাৎ একদিন কোনো কারনে হাতে সেই গাছটা লেগে যায়, তার যা শুরু হলো বলার মতো না৷ এমন চুলকাতে শুরু হলো,তারপর সুন্দর গোল গোল চাকা চাকা হয়ে হয়ে জায়গাটা জলতে শুরু হলো। মনে তো হছিলো মাটিতে গড়াগড়ি শুরু করে দিই তার জ্বালায়।

এক বড় বাই পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো, আমার সেই অবস্থা দেখে বললো আরে বিছাতুর গাছে হাত দিয়েছিস কেনো, থাম আমি ব্যবস্থা করছি। এই বলে সেই বিছাতু গাছের পাতা হাতের তালুতে নিয়ে দলা দিলো তারপর রসটা আমার হাতের জ্বালার জায়গায় দিয়ে দিলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখলাম ঠিক হয়ে গেলো।

আমি তো অবাক, ভাই এটা কিভাবে জানলেন? ভাই বললো তাকে আরেকজন কেউ এই পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছে। ভালোই হলো পরে যদি কেউ এই বিপদে পড়ে আমিও তাকে এটা শিখিয়ে দিবো।

আর কথা না বাড়িয়ে এখন মূল কথায় আসি। বাস্তব পক্ষে ঔষধের ধারণা এইভাবেই এসেছে। প্রাচীন কালে কেউ কোনো রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং কোনো গাছ পালা লতাপাতা খেয়ে আরোগ্য লাভ করেছে তখন সেটা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে যে উমুক রোগের জন্য তমুক গাছটা খেলে উপকার পাওয়া যায়। কিছু কিছু লোকজন আবার বংশ পরম্পরায় সেই তথ্য, জ্ঞান রক্ষাও করেছে এবং আজো করে আসছে।

কিন্তু বর্তমানে কৃত্রিম ঔষধের আবির্ভাবের পর থেকে এই ধারায় সিথিলতা দেখে দিয়েছে । যখন মানুষ একটু বিজ্ঞান মনস্ক হলো তখন জানতে চাইলো একটা গাছ সেই রোগটা কিভাবে আরোগ্য করে। আদৌ করে কি না? হলো বিভিন্ন পরীক্ষা। বের করা হলো গাছের কি কি উপাদান জড়িত আছে সেই রোগের সাথে।
আরেকটু গভীরভাবে বলতে গেলে, যেটা খেলে সুস্থ হওয়া যায় উদ্ভিদের সেই অংশটার কেমিক্যাল এনালাইসিস করা হলো এবং তার উপাদান গুলো আলাদা করা হলো। তারপর পরীক্ষা করা হলো সেগুলোর কোন স্পেসিফিক উপাদানটা রোগটা কমাতে সহায়তা করছে।

উদাহরণ হিসেবে ধরুন একটা গাছের পাতা খেয়ে আপনার জ্বর সেরে যাচ্ছে সেই পাতাটার কেমিক্যাল এনালাইসিস করে পাওয়া গেলো মোট ৭০-৮০ টা উপাদান সেখানে আছে। নিশ্চয়ই সব গুলো উপাদানই আর আপনার জ্বর কমায় নি, তাই পরীক্ষা করা হলো ইদুরের উপর। প্রত্যেকটা উপাদানকে প্রয়োগ করা হলো এবং দেখা গেলো যে ৩ টা বা ৪ টা উপাদান জ্বর কমাতে সাহায্য করছে বাকিগুলোর জ্বরের সাথে কোনো ভূমিকা নাই।

ব্যাস, কাজ হয়ে গেছে আমরা জেনে ফেলেছি কোন উপাদানটা খেলেই রোগ ভালো হয়ে যাবে। সেটার ফর্মুলা দিয়ে বানিয়ে ফেললাম জ্বরের ঔষধ। আর অনেক অনেক গাছ গাছড়া না, একটা ছোট্ট বড়ি খাবো আর সুস্থ হয়ে যাবো। সত্যিই ঔষধটা কাজ করলো, রোগ সেরে গেলো। আবিস্কারকরা তো বুক ফুলিয়ে বলতে শুরু করলো কি আর সপ্তাহের পর সপ্তাহ গাদা গাদা গাছ গাছড়া খাবো, কোনোই দরকার নাই। সেই গাদা গাদা খেয়ে যেটুকু পাওয়া যাবে তার চেয়ে দশগুন পনেরো গুন বিশগুন বেশি এই ছোট্ট বড়িতে, ছোট্ট ট্যাবলেটে পুরে দিয়েছি। খাও আর কিছু দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যাও। ভুলে যাও সেই গাছ গাছড়ার আদিম পদ্ধতি।

সত্যিই, যেই না রোগ আরোগ্য হলো সাথে সাথে এর ব্যপকভাবে প্রয়োগ শুরু হলো। শুধু কোন রোগ কোন গাছ পালা খেলে ভালো হয় সেটা জেনে কেমিক্যাল এনালাইসিস করে বের হতে লাগলো হাজার হাজার রোগের ঔষধ। এই নতুন ঔষধের সংসার বেশ কিছুদিন ভালোই চলছিলো কিন্তু হঠাৎ দেখা গেলো এই ঔষধ খেয়ে সেই রোগটা সেরে যাচ্ছি ঠিকই কিন্তু অন্যধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

দেখাগেলো যে একটানা বেশিদিন কোনো ঔষধ খেলে নতুন একটা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে যাকে আমরা সাইড ইফেক্টস বলি। এমনটা কেনো হলো, গাছ-পালা খেয়ে তো সবাই কোনো সমস্যা ছাড়াই ঠিক হয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু এখানে এমন হচ্ছে কেনো???

এই নিয়ে আমাদের কিংবদন্তি স্যার, প্রফেসর মোঃ আবুল হাসান স্যারের খুব সুন্দর একটি কথা আছে। তিনি বলেন, “গাছ-পালা খেলে রোগ সারে কিন্তু কোনো সাইড ইফেক্টস নাই কারণ এর মধ্যে থাকা কিছু উপাদান রোগ সারাতে সাহায্য করে এবং বাকি উপাদান গুলো একে অন্যান্য ক্রিয়া থেকে নিষ্ক্রিয় রাখে। এটা আল্লাহ তালার একটা বড় নিয়ামত।”

মানে ঐ যে উদাহরণ দিয়েছিলাম মনে আছে? আরে একটু উপরেই আছে, ঐ যে বলেছিলাম কেমিক্যাল এনালাইসিস করে ৭০-৮০ টা উপাদানের মধ্যে হয়ত ৩-৪টা উপাদান রোগ সারাতে ভূমিকা রাখে আর বাকি গুলার রোগ সারাতে কোনো ভুমিকা নাই। আসলে আল্লাহ তালা কোনো কিছুই এমনি এমনি বানাই নি, বাকি যে উপাদান গুলো উপস্থিত থাকে সেগুলো ঐ ৩-৪ টা উপাদানকে অন্যকোনো কিছু না করে সেটার খেয়াল রাখে মানে ঐ ৩-৪টা উপাদানের পারিপার্শ্বিক ক্রিয়াকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় ফলে কোনো সমস্যা হয় না।

কিন্তু আমরা শুধু ঐ ৩-৪ টা উপাদান দিয়েই ঔষধ বানায়, বাকি গুলো তো নিই না, তাহলে তো সাইড ইফেক্টস থাকতেই পারে।

দেখা যাবে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা, মাথা ব্যাথার ঔষধ খেলেন একটু সুস্থ হলেন, পরের দিন আবার ব্যাথা আবার খেলেন আবার ব্যাথা আবার খেলেন এইভাবে খেতে থাকলে কিছুদিন পর হয়ত সর্দির সমস্যা দেখা দিলো, আপনি সর্দির ঔষধ খেতে শুরু করলেন, খাচ্ছেন, খাচ্ছেন দেখা গেলো সর্দি ভালো হলো ঠিকই কিন্তু বুকে জ্বালা শুরু হলো, আপনি আবার কোনো ঔষধ খাবেন আবার কোনো সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এইভাবে ঔষধ খেতেই থাকবেন নতুন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হবে।

কি তাইলে কি ঔষধ খাবো না? হ্যাঁ অবশ্যই খাবেন, খাবেন না কেনো? অসুখ হলে তো খেতেই হবে কিন্তু মনে রাখবেন একটানা একই ঔষধ বেশি দিন খাবেন না।

বেশি দিন খাবো না মানে? অসুখ না সারলে কি করবো, ঔষধ তো খেতেই হবে। আর কি কিছু করার আছে?

শর্টকাট চাইলে নাই, আপনি ঐ ঔষধই খান, এটাই আপনার জন্য ভালো। আর যদি স্থায়ী কোনো সমাধান চান তাহলে একটু কষ্ট করা লাগবে। একটু তো কষ্ট করাই লাগবে।

তবে হ্যাঁ, ক্ষতিকর দিক দিয়ে হোমিওপ্যাথি এই দিক দিয়ে আলোপ্যাথির চেয়ে কিছুটা ভালো কারণ এই হোমিওপ্যাথির প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশ ঔষধ বা মাদার টিংচার আসে সরাসরি গাছ পালা থেকে। কিন্তু এখানেও একটু সমস্যা আছে। অনেক সময় এতেও অন্যান্যদের মতো সাইড ইফেক্টস দেখা দেয় তবে খুব কম।

আচ্ছা এই বিষয়টা বুঝি না, আমিও জানি আপনিও জানলেন যে ঔষধ আসে গাছপালা থেকে তাহলে একে গ্রহণ করতে এতো সংকোচ বোধ হয় কেনো? এটা থেকে অন্য কিছু বানিয়ে দিলে সেটা গ্রহণ করতে অসুবিধা নাই কিন্তু এটা সরাসরি গ্রহণ করা যাবে না। আজব কথা না???

ও আচ্ছা, বুঝেছি। এই ভেষজ ঔষধের প্রতি একটা খারাপ মনোভাব পোষণ করার কারণ হলো বর্তমানের হকাররা। তারা এই গুরুত্বপূর্ণ একটা চিকিৎসা পদ্ধতিকে নিজেদের লাভের জন্য নিজেদের স্বার্থের জন্য, নিজেদের স্বল্পজ্ঞানের জন্য মানুষের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যে এই ভেষজ ঔষধ, ভেষজ চিকিৎসা এখন মানুষের কাছে একটা হাস্যকর বিষয়। মানুষ ভেষজ চিকিৎসার কথা শুনলেই ঠাস ঠুস করে উড়িয়ে দেয়। তাদের কাছে আর কোনো মূল্যই নাই আর ভেষজ ঔষধের।

সেটা মানুষ চিন্তা করতেই পারে, মানুষ স্বাধীন চিন্তার অধিকারী। কোনো চিন্তাই কেউ কারোর উপরে চাপিয়ে দিতে পারে না, আমিও পারবো না।

কিন্তু হ্যাঁ, শেষ একটা কথা বলে রাখি যদি কোনো দিন অসুস্থ হোন তাহলে একদম অন্তিত চিকিৎসা, মানে আলোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি তে ট্রাই করে রোগা না সারলে নিঃসংকোচে চলে আসবেন এই ভেষজ চিকিৎসায়। হয়তো আপনার অবহেলার গাছ গাছড়ায় ফিরিয়ে দিতে পারে আপনার অমূল্য সুস্থতা।

ঔষধ হিসেবে গাছ গাছড়া কেনো?

বর্তমানে আমরা আলোপ্যাথিক ঔষধের প্রতি ঝুঁকে পড়েছি। একটু কিছু হলেই প্যারাসিটামল, ডাক্তার, এক গাদা ঔষধ। একটু সুস্থ হয়ে সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবার কিছু না কিছু সমস্যা, আবার ডাক্তার আবার আরো এক গাদা ঔষধ। এতেই শেষ না, ডাক্তার সাহেব বলেও দেন ঔষধটা খেয়ে দেখেন সুট না করলে চেঞ্জ করে অন্য কিছু দিবো।

এত এত ঔষধ খেয়ে বাঁচা যায় নাকি। মাঝে মাঝে তো মনে হয় ছোট বেলা থেকে যে পরিমানে ঔষধ খেয়েছি, পেট চিরে যদি বের করা যেতো তাহলে দিব্যি একটা বড় রকমের ঔষধের দোকান দেয়া যেতো। কিন্তু কি আর করার, রোগ হলে তো ঔষধ খেতেই হয়, আর উপায় কি।

এই যে আমরা অহরহ এত এত ঔষধ খেয়েই যাচ্ছি কেউ কি কখনো চিন্তা করে দেখেছেন আসলে ঔষধ জিনিস টা কি? বা কোন ঔষধ খেলে কোন রোগ সারে এটা কিভাবে এসেছে আমাদের মাঝে।
মনে হয় না কারোর এত চিন্তা করার সময় আছে। সবাই ব্যস্ত মানুষ। কি দরকার এত চিন্তা করার। খাচ্ছি ঠিক হয়ে যাচ্ছি আর কি লাগে, শুধু শুধুই সময় নষ্ট করার প্রয়োজন আছে।

যাক সেসব কথা বাদই দিলাম, ধরে নিলাম সেগুলোর তেমন কোনো প্রয়োজন নাই কিন্তু মাঝে মাঝে ঔষধ ব্যবহারের সময় সাইড ইফেক্টস নামক একটা টেনশন আপনার কাধে চেপে বসে, বসে না? অবশ্যই বসে। ব্যবহার করার আগেই আমরা অল্প হলেও জানার চেষ্টা করি যেই ঔষধটা ব্যবহার করি তাই কি কি সাইড ইফেক্টস আছে। আচ্ছা, ঔষধের সাইড ইফেক্টস থাকে কেনো? এই ভদ্রলোকের হাত থেকে কি বাঁচা যায় না? বা এমন কি কোনো ঔষধ আছে যার কোনো সাইড ইফেক্টস নাই?

আমরা অনেকেই আবার এই সাইড ইফেক্টস এর হাত থেকে বাঁচার জন্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহার করি। মাঝে মাঝে খুব ভালো ফলও পাই। কিন্তু যখন আলোপ্যাথি আর হোমিওপ্যাথি কোনোটাই রোগ সারাতে না পারে তখন কি করা যায় বলুন তো???

কি, দিলাম তো আপনার মনে অনেক অনেক প্রশ্ন জাগিয়ে? সমস্যা নাই তো, এখন জাগিয়ে তোলা সকল প্রশ্নের উত্তরও দিবো, শুধু একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ে যাবেন ।

শুরু করি,
শুরু কি দিয়ে করা যায় বলুন তো?
ও হ্যাঁ, পেয়েছি। একটু ছোট্ট একটা গল্প বলি, এটা দিয়েই শুরু করি।

ছোটবেলায় আমাদের গ্রামে রাস্তার ধারে লতানো কিছু উদ্ভিদ দেখা যেতো। দেখতে খুব সুন্দর পাতাগুলাতে অনেক অনেক রোম, ফুলগুলো হতো হলুদ হলুদ আর ফলগুলো ত্রিকোনাকার। হঠাৎ একদিন কোনো কারনে হাতে সেই গাছটা লেগে যায়, তার যা শুরু হলো বলার মতো না৷ এমন চুলকাতে শুরু হলো,তারপর সুন্দর গোল গোল চাকা চাকা হয়ে হয়ে জায়গাটা জলতে শুরু হলো। মনে তো হছিলো মাটিতে গড়াগড়ি শুরু করে দিই তার জ্বালায়।

এক বড় বাই পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো, আমার সেই অবস্থা দেখে বললো আরে বিছাতুর(বিছুটি, Tragia involucrata) গাছে হাত দিয়েছিস কেনো, থাম আমি ব্যবস্থা করছি। এই বলে সেই বিছাতু গাছের পাতা হাতের তালুতে নিয়ে দলা দিলো তারপর রসটা আমার হাতের জ্বালার জায়গায় দিয়ে দিলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখলাম ঠিক হয়ে গেলো।

আমি তো অবাক, ভাই এটা কিভাবে জানলেন? ভাই বললো তাকে আরেকজন কেউ এই পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছে। ভালোই হলো পরে যদি কেউ এই বিপদে পড়ে আমিও তাকে এটা শিখিয়ে দিবো।

আর কথা না বাড়িয়ে এখন মূল কথায় আসি। বাস্তব পক্ষে ঔষধের ধারণা এইভাবেই এসেছে। প্রাচীন কালে কেউ কোনো রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং কোনো গাছ পালা লতাপাতা খেয়ে আরোগ্য লাভ করেছে তখন সেটা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে যে উমুক রোগের জন্য তমুক গাছটা খেলে উপকার পাওয়া যায়। কিছু কিছু লোকজন আবার বংশ পরম্পরায় সেই তথ্য, জ্ঞান রক্ষাও করেছে এবং আজো করে আসছে।

কিন্তু বর্তমানে কৃত্রিম ঔষধের আবির্ভাবের পর থেকে এই ধারায় সিথিলতা দেখে দিয়েছে । যখন মানুষ একটু বিজ্ঞান মনস্ক হলো তখন জানতে চাইলো একটা গাছ সেই রোগটা কিভাবে আরোগ্য করে। আদৌ করে কি না? হলো বিভিন্ন পরীক্ষা। বের করা হলো গাছের কি কি উপাদান জড়িত আছে সেই রোগের সাথে।
আরেকটু গভীরভাবে বলতে গেলে, যেটা খেলে সুস্থ হওয়া যায় উদ্ভিদের সেই অংশটার কেমিক্যাল এনালাইসিস করা হলো এবং তার উপাদান গুলো আলাদা করা হলো। তারপর পরীক্ষা করা হলো সেগুলোর কোন স্পেসিফিক উপাদানটা রোগটা কমাতে সহায়তা করছে।

উদাহরণ হিসেবে ধরুন একটা গাছের পাতা খেয়ে আপনার জ্বর সেরে যাচ্ছে সেই পাতাটার কেমিক্যাল এনালাইসিস করে পাওয়া গেলো মোট ৭০-৮০ টা উপাদান সেখানে আছে। নিশ্চয়ই সব গুলো উপাদানই আর আপনার জ্বর কমায় নি, তাই পরীক্ষা করা হলো ইদুরের উপর। প্রত্যেকটা উপাদানকে প্রয়োগ করা হলো এবং দেখা গেলো যে ৩ টা বা ৪ টা উপাদান জ্বর কমাতে সাহায্য করছে বাকিগুলোর জ্বরের সাথে কোনো ভূমিকা নাই।

ব্যাস, কাজ হয়ে গেছে আমরা জেনে ফেলেছি কোন উপাদানটা খেলেই রোগ ভালো হয়ে যাবে। সেটার ফর্মুলা দিয়ে বানিয়ে ফেললাম জ্বরের ঔষধ। আর অনেক অনেক গাছ গাছড়া না, একটা ছোট্ট বড়ি খাবো আর সুস্থ হয়ে যাবো। সত্যিই ঔষধটা কাজ করলো, রোগ সেরে গেলো। আবিস্কারকরা তো বুক ফুলিয়ে বলতে শুরু করলো কি আর সপ্তাহের পর সপ্তাহ গাদা গাদা গাছ গাছড়া খাবো, কোনোই দরকার নাই। সেই গাদা গাদা খেয়ে যেটুকু পাওয়া যাবে তার চেয়ে দশগুন পনেরো গুন বিশগুন বেশি এই ছোট্ট বড়িতে, ছোট্ট ট্যাবলেটে পুরে দিয়েছি। খাও আর কিছু দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যাও। ভুলে যাও সেই গাছ গাছড়ার আদিম পদ্ধতি।

সত্যিই, যেই না রোগ আরোগ্য হলো সাথে সাথে এর ব্যপকভাবে প্রয়োগ শুরু হলো। শুধু কোন রোগ কোন গাছ পালা খেলে ভালো হয় সেটা জেনে কেমিক্যাল এনালাইসিস করে বের হতে লাগলো হাজার হাজার রোগের ঔষধ। এই নতুন ঔষধের সংসার বেশ কিছুদিন ভালোই চলছিলো কিন্তু হঠাৎ দেখা গেলো এই ঔষধ খেয়ে সেই রোগটা সেরে যাচ্ছি ঠিকই কিন্তু অন্যধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

দেখাগেলো যে একটানা বেশিদিন কোনো ঔষধ খেলে নতুন একটা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে যাকে আমরা সাইড ইফেক্টস বলি। এমনটা কেনো হলো, গাছ-পালা খেয়ে তো সবাই কোনো সমস্যা ছাড়াই ঠিক হয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু এখানে এমন হচ্ছে কেনো???

এই নিয়ে আমাদের ডিপার্টমেন্টের কিংবদন্তি স্যার, প্রফেসর মোঃ আবুল হাসান স্যারের খুব সুন্দর একটি কথা আছে। তিনি বলেন, “গাছ-পালা খেলে রোগ সারে কিন্তু কোনো সাইড ইফেক্টস নাই কারণ এর মধ্যে থাকা কিছু উপাদান রোগ সারাতে সাহায্য করে এবং বাকি উপাদান গুলো একে অন্যান্য ক্রিয়া থেকে নিষ্ক্রিয় রাখে। এটা আল্লাহ তালার একটা বড় নিয়ামত।”

মানে ঐ যে উদাহরণ দিয়েছিলাম মনে আছে? আরে একটু উপরেই আছে, ঐ যে বলেছিলাম কেমিক্যাল এনালাইসিস করে ৭০-৮০ টা উপাদানের মধ্যে হয়ত ৩-৪টা উপাদান রোগ সারাতে ভূমিকা রাখে আর বাকি গুলার রোগ সারাতে কোনো ভুমিকা নাই। আসলে আল্লাহ তালা কোনো কিছুই এমনি এমনি বানাই নি, বাকি যে উপাদান গুলো উপস্থিত থাকে সেগুলো ঐ ৩-৪ টা উপাদানকে অন্যকোনো কিছু না করে সেটার খেয়াল রাখে মানে ঐ ৩-৪টা উপাদানের পারিপার্শ্বিক ক্রিয়াকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় ফলে কোনো সমস্যা হয় না।

কিন্তু আমরা শুধু ঐ ৩-৪ টা উপাদান দিয়েই ঔষধ বানায়, বাকি গুলো তো নিই না, তাহলে তো সাইড ইফেক্টস থাকতেই পারে।

দেখা যাবে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা, মাথা ব্যাথার ঔষধ খেলেন একটু সুস্থ হলেন, পরের দিন আবার ব্যাথা আবার খেলেন আবার ব্যাথা আবার খেলেন এইভাবে খেতে থাকলে কিছুদিন পর হয়ত সর্দির সমস্যা দেখা দিলো, আপনি সর্দির ঔষধ খেতে শুরু করলেন, খাচ্ছেন, খাচ্ছেন দেখা গেলো সর্দি ভালো হলো ঠিকই কিন্তু বুকে জ্বালা শুরু হলো, আপনি আবার কোনো ঔষধ খাবেন আবার কোনো সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এইভাবে ঔষধ খেতেই থাকবেন নতুন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হবে।

কি তাইলে কি ঔষধ খাবো না? হ্যাঁ অবশ্যই খাবেন, খাবেন না কেনো? অসুখ হলে তো খেতেই হবে কিন্তু মনে রাখবেন একটানা একই ঔষধ বেশি দিন খাবেন না।

বেশি দিন খাবো না মানে? অসুখ না সারলে কি করবো, ঔষধ তো খেতেই হবে। আর কি কিছু করার আছে?

শর্টকাট চাইলে নাই, আপনি ঐ ঔষধই খান, এটাই আপনার জন্য ভালো। আর যদি স্থায়ী কোনো সমাধান চান তাহলে একটু কষ্ট করা লাগবে। একটু তো কষ্ট করাই লাগবে।

তবে হ্যাঁ, ক্ষতিকর দিক দিয়ে হোমিওপ্যাথি এই দিক দিয়ে আলোপ্যাথির চেয়ে কিছুটা ভালো কারণ এই হোমিওপ্যাথির প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশ ঔষধ বা মাদার টিংচার আসে সরাসরি গাছ পালা থেকে। কিন্তু এখানেও একটু সমস্যা আছে। অনেক সময় এতেও অন্যান্যদের মতো সাইড ইফেক্টস দেখা দেয় তবে খুব কম।

আচ্ছা এই বিষয়টা বুঝি না, আমিও জানি আপনিও জানলেন যে ঔষধ আসে গাছপালা থেকে তাহলে একে গ্রহণ করতে এতো সংকোচ বোধ হয় কেনো? এটা থেকে অন্য কিছু বানিয়ে দিলে সেটা গ্রহণ করতে অসুবিধা নাই কিন্তু এটা সরাসরি গ্রহণ করা যাবে না। আজব কথা না???

ও আচ্ছা, বুঝেছি। এই ভেষজ ঔষধের প্রতি একটা খারাপ মনোভাব পোষণ করার কারণ হলো বর্তমানের হকাররা। তারা এই গুরুত্বপূর্ণ একটা চিকিৎসা পদ্ধতিকে নিজেদের লাভের জন্য নিজেদের স্বার্থের জন্য, নিজেদের স্বল্পজ্ঞানের জন্য মানুষের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যে এই ভেষজ ঔষধ, ভেষজ চিকিৎসা এখন মানুষের কাছে একটা হাস্যকর বিষয়। মানুষ ভেষজ চিকিৎসার কথা শুনলেই ঠাস ঠুস করে উড়িয়ে দেয়। তাদের কাছে আর কোনো মূল্যই নাই আর ভেষজ ঔষধের।

সেটা মানুষ চিন্তা করতেই পারে, মানুষ স্বাধীন চিন্তার অধিকারী। কোনো চিন্তাই কেউ কারোর উপরে চাপিয়ে দিতে পারে না, আমিও পারবো না।

কিন্তু হ্যাঁ, শেষ একটা কথা বলে রাখি যদি কোনো দিন অসুস্থ হোন তাহলে একদম অন্তিত চিকিৎসা, মানে আলোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি তে ট্রাই করে রোগা না সারলে নিঃসংকোচে চলে আসবেন এই ভেষজ চিকিৎসায়। এই ধরুন গুরুপাক খাবার খেয়ে এসিডিটির সমস্যা শুরু হলো, একটা অমেপ্রাজল না খেয়ে এক টুকরা আদা খেলে কি খুব সমস্যা হবে? হ্যাঁ, স্বাদটা একটু কেমন লাগতে পারে কিন্তু কাজ সেই ট্যাবলেট আর ক্যাপসুল অথবা লিকুইড ঔষধ সব কিছুর চেয়ে অনেকগুনে ভালো।

গাছ-গাছড়ার নাম শুনেই অবহেলা করছেন, করুন আমার কোনো আপত্তি নাই কিন্তু প্রয়োজন হলে ফিরে আসুন এইদিকেই।হয়তো আপনার অবহেলার গাছ গাছড়ায় ফিরিয়ে দিতে পারে আপনার অমূল্য সুস্থতা।

About Md. Siddiq Hasan

Md. Siddiq Hasan

Check Also

Steps of Fertilization

Fertilization is the union of male and female gametes to produce a zygote. There are …

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of