“হাতিরঝিলে এক বেলা”
- পলাশ Butea monosperma (L.)mak.
- শিমুল Bombax ceiba L.
- কাঠবাদাম Terminalia catappa L.
- হিজল Barringtonia acutangula (L.) Gaerth.
- রানীচূড়া Senna polyphylla (Jacq.) H.S.Irwin
- খেজুর Phoenix sylvestris Roxb.
- বাগানবিলাস Bougainvillea spectabilis Willd.
- শ্বেতশিমুল Ceiba pentandra (L.) Gaertn.
- কামিনী Murraya paniculata (L.) Jack
- শ্বেত রক্তকাঞ্চন bauhinia variegata var. candida
- দেবকাঞ্চন Bauhinia purpurea L.
- বোতলব্রাশ Callistemon citrinus (Curtis) Skeels
- কাঁটামেহেদী Duranta repens L.
প্রথমেই রামপুরা ব্রীজ থেকে হাতিরঝিল চক্রাকার বাসে উঠে একদম শেষ মাথায় এসে নামলাম, তারপরেই হেটে হেটে পূরোটা ঘুরে ঘুরে দেখা শুরু হলো। শুরুতেই দেখা পেলাম পলাশ আর শিমুলের। তারপর কাঠবাদামের। কাঠবাদামের পুরো গাছগুলো জুড়ে একদম ফুলে ফুলে ভরে আছে। দেখতে ভালোই লাগছিলো।
তারপরে রাস্তার ফুটপাত ধরে যত এগুতে থাকলাম নদীর কিনারা ঘেষে বেশ কিছু মেহগনির গাছ পেলাম। আর সাথে সাথে আছে খেজুর গাছ। এখানে আরো যেগুলো চোখে পড়ে তা হলো হিজল গাছ। মাঝে মাঝে আবার মহুয়ার দেখা পেলাম।
কিছুটা পথ যেতেই হলুদ হলুদ যার প্রভাব বিস্তার তা হলো রানীচূড়া। ও হ্যাঁ এখানে আবার অনেক জায়গায় রাধাচূড়াও উপস্থিত। তারপর এলো একটা ফ্লাইওভার। সেটার ধারে ধারে ঝাউ গাছের ললিপপের মতো অবায়ব একদম শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। তার তাদের ফাকে ফাকে আছে বাগানবিলাস ।
তারপর শুরু হলো কামিনি আর কাঞ্চনের খেলা। দেবকাঞ্চনও আছে সাথে। একদম একের পর পর তাদেরকে ক্রমে ক্রমে দেখতে মজাই লাগছিলো। কাঠগোলাপের (Plumeria obtusa L.) বিভিন্ন রকমের বাহারের উপস্থিতি আমাদের নজর কাড়ে।
আরেকটু পথ যেতেই আরেকটা ফ্লাই ওভার। তার আশে পাশে আছে শুধু বোতলব্রাশ আর বোতলব্রাশ। সবগুলো গাছেই বেশ ভালোই ফুল ধরেছে দেখে মনে হচ্ছিলো যেনো আগুনের ফুলকি গাছে উপর ছিটা ফোটা পড়েছে।
ও এখানে কাঁটামেহেদীর ফলগুলো সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে কারণ এইভাবে আমি এর আগে কোনোদিনই ফল দেখিনি। প্রথমে মনে হয়েছিলো থোকায় থোকায় পাকা কমলা লেবু ধরে আছে।
তবে শেষ প্রান্তে এসে আরেকটা ফ্লাই ওভার। প্রথমে একটু হতাশ হয়েছিলাম কারণ দেখলাম কিছু কাঞ্চন গাছ আর কিছু বোতলব্রাশের গাছ পর পর খুব কাছাকাছি লাগানো আছে। কাঞ্চনের সাদা সাদা ফুলের সাথে আমি বোতলব্রাশের গাছের পাতা পাশাপাশি দেখে হয়ত মনে করেছিলাম নতুন একটা গাছ দেখেছি। সত্যিই মনটা একটু খারাপ হয়েছিলো কারণ ঘন্টা খানেক হেটে ক্লান্ত হয়ে যা চাইলাম বা যার দেখা পাবার আশায় ছিলাম সে বাস্তবে নাই।
তারপরেও হতাশার কিছু নাই, পুরোটাই খুব উপভোগ করেছি।
না না, শেষ না। এখনো কিছু বাকি আছে,,,
আসতে আসতে ফ্লাইওভার এর পাশেই হঠাৎ করে চোখে পড়লো গতদিনের দেখা সেই গাছগুলো।গাছটা বোতলব্রাশের মতো আর সাদা সাদা ফুল থোকায় থোকায় ঝুলে আছে। অনেক অনেক ছবি তুলেছি এর। আমার ছবি তুলা দেখে তো একজন পাশ দিয়ে যেতে যেতে জিজ্ঞাসাই করে বসলো ভাই গাছটার নাম কি?
আমি নামই বলতে পারলাম না. এটা আমার জন্য একটু লজ্জাজনক। তবে হ্যাঁ, সেটা আমার কাছে তখন অনেক দামী একটা গাছ মনে হচ্ছিলো কারণ সে আমাকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিলো আমার অনুমান সঠিক ছিলো, সেদিন ভুল দেখি নি ।
যাইহোক, পুলিশ প্লাজার কাছাকাছি এসে এতটাই ক্লান্ত অনুভব করছিলাম যে বাধ্য হয়ে আবার চক্রাকার বাসে উঠে রামপুরা ব্রীজের স্টপেজে ফিরে এলাম। বাসার দিকেই রওনা দিচ্ছিলাম কিন্তু কি আর করার যাবার পথে স্টপজের কাছেই কিছু বান্দরলাঠীর Cassia grandis গাছ দেখেছিলাম। একটু একটু করে খুব ধীরে ধীরে তাদের কাছে যেয়ে পৌঁছে দুইচারটা ছবি তুলে ফেরত এলাম বাসা।
আমার এই ভ্রমনের নায়ক যার জন্য সেদিন হাতিরঝিলে গেছিলাম তার পরিচয় পেলাম শ্রদ্ধেয় জসিম স্যারের কাছে। তাকে কিছু ছবি দিয়েছিলাম তিনিই তার পরিচয় দিলেন। নাম Callistemon pallidus (Bonpl.) DC.
Plantlet The Blogging Platform of Department of Botany, University of Dhaka