গ্যালারি রুম, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ

পরীক্ষার আগের রাতে পড়ার ট্রেন্ড

পরীক্ষার আগের রাতের পড়ার ট্রেন্ড

আমরা অনেকেই এই কাজটার সাথে খুব পরিচিত। বিশেষ করে আমি এই পরীক্ষার আগের রাতে পড়ার সাথে শুধু পরিচিতই নয় বরং রীতিমতো অভ্যস্তও বটে। কিন্তু আজকে হঠাৎ করে মনে হলো নাহ্, বিষয়টা নিয়ে একটু আলোচনা প্রয়োজন তাই লিখতে বসা। তবে মূল কথা শুরু করার আগে জেনারেটর সক্ষমতা নিয়ে একটা অন্য গল্প বলি।

একটি জেনারেটরের দুইটি অবস্থা হয়, প্রথম অবস্থা হলো নো-লোড কন্ডিশন যার সহজ অর্থ হলো জেনারেটরের সাথে কোনো লোড যুক্ত নাই, লোড=0। দ্বিতীয় অবস্থাটি হলো ফুল-লোড কন্ডিশন যার সহজ অর্থ হলো সেই জেনারেটর যতটুকু লোড টানতে পারবে ঠিক সেই পরিমান লোড দেয়া আছে। অবশ্য লোড টানাকে টেকনিক্যাল ভাষায় বলে কারেন্ট সাপ্লাই দেয়া মানে সেই জেনেরেটর সর্বোচ্চ যে পরিমান কারেন্ট সাপ্লাই করতে পারে তা দেয়া, লোড=Max।

আমরা তো আবার কোনো বিষয় থিউরির মাধ্যমে বুঝার চেয়ে উদাহরণ দিয়ে বুঝে অভ্যস্ত। যেহেতু বলছিই তখন ভালো ভাবেই বলি, উদাহরণ দিয়ে বুঝলে একটা উদাহরণ দিয়েই ফেলি। ধরেন ২২০ ভোল্টে চালিত একটি জেনারেটর ১০০ ওয়াট ক্ষমতার সর্বোচ্চ ৫ টা বাল্ব স্বাভাবিকভাবে জ্বালাতে পারে, মানে সে পরিমান কারেন্ট সাপ্লাই করতে পারে। এখন জেনারেটরটা চালু করলাম কিন্তু কোনো বাল্ব জ্বালালাম না, তাহলে এটাই হলো প্রথম অবস্থা বা নো-লোড কন্ডিশন। তারপরে একটা বাল্ব জ্বালালাম মানে লোড দেয়া শুরু করলাম। ২টা বাল্ব জ্বালালাম মানে লোড বাড়ালাম, আরেকটা বাল্ব জ্বালালাম, এইভাবে যখন ৫ টা ১০০ ওয়াটের বাল্ব জ্বালাবো তখন এটা হলো সেই জেনারেটরের জন্য ফুল লোড কন্ডিশন মানে এখনই সর্বোচ্চ পরিমানে কারেন্ট প্রবাহিত হচ্ছে এই চেয়ে বেশি কারেন্ট সেই জেনারেটর দিতে পারবে না।

তারপরে ধরেন আরেকটা বাল্ব জ্বালালাম মানে ৬টা জ্বালালাম তাহলে কি হবে? তাহলে কি জেনেরেটরটি পুড়ে যাবে? উত্তর হলো না, ঠিক পুড়বে না তবে সেখানে নতুন এক পদ্ধতি চালু হবে। যেহেতু আর কারেন্ট বাড়ছে না কিন্তু লোড তো বেড়েছে। সেটাকে চালাতে হলে যে পদ্ধতি সেখানে শুরু হবে সেটা হলো ঐ একই কারেন্ট অন্যগুলো থেকে কমে গিয়ে নতুন লোডে প্রবেশ করবে এবং সেটাও চলতে শুরু হবে। এর ফলে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়ে জেনারেটরের কর্মদক্ষতা কমে গেলেও সবগুলো বাল্বই কিন্তু জ্বলবে। তবে আরেকটা যে সমস্যা হবে তা হলো কারেন্ট অন্য লোডগুলোতে থেকে কমে যাওয়ায় বাল্বগুলোর আলো কমে যাবে। পরবর্তীতে আরো যত বেশি বাল্ব যুক্ত করা হবে মানে ৭টা, ১০টা, ২০টা সবগুলো বাল্বই জ্বলবে কিন্তু আলোর পরিমান কমতে কমতে এমন এক পর্যায়ে যাবে যে ঐ আগের ৫টা বাল্বে যত আলো হচ্ছিলো পরে সর্বমোট ২০টা বাল্ব মিলেও দেখা যাবে সেই একই পরিমান বা তার চেয়ে একটু বেশি আলো দিবে। একটু বেশি মানে একটু বেশি খুব বেশি না কিন্তু।

যাইহোক, এইছিলো জেনারেটর নিয়ে আলোচনা। এখন মূল বিষয়ে আসা যাক। আমরা মাঝে মাঝে নিজেদেরকে রোবটের সাথে তুলনা করি বা আমাদের মস্তিষ্ককে বলি সুপার কম্পিউটার। সেই গল্পের সাথে মিল রেখে আমাদের জেনারেটররুপী ব্রেনের অবস্থাও কিছুটা একই হয়। সারা মাস কিছুই পড়ি না, এখানে ওখানে ঘুরেফিরে বেড়াই, ঘুমাই, গেম খেলি, টিউশনি তো আছেই। তখন আমাদের অবস্থা হয় নো-লোড কন্ডিশনের মতো। দেখা যায় সপ্তাহ খানেক আগে কিছু পড়লেও সেটা দিব্বি মনে থাকে। তখন লোড দিলেও কোনো অসুবিধা হয় না। কিন্তু আমরা এমনটা করি না।

আমরা কি করি, পরীক্ষার আগের রাতে সবকিছু নিয়ে বসে শুরু করি পড়তে মানে লোড দিতে। লোড দিচ্ছি, দিচ্ছি থামা থামি নাই কিন্তু দিতেই আছি। এক পর্যায়ে এসে আমাদের অবস্থা ফুল-লোড কন্ডিশনের মতো হয়ে পড়ে। যতটুকু মনে রাখা সম্ভব সেই লিমিট পার হয়ে গেলেও পড়েই যাচ্ছি পড়েই যাচ্ছি। কিন্তু লাভ কি কিছু হচ্ছে? হ্যাঁ ব্রেন হ্যাং করছে না ঠিকই কিন্তু তার কর্মদক্ষতা কমাতেই আছে কমাতেই আছে। উদাহরণ দিয়ে বলতে গেলে এক পৃষ্টা পড়ে যখন পরের পৃষ্টায় যায় আগের পৃষ্টায় কি পড়লাম আর মনেই পড়ে না, এমনকি এক লাইন পড়ার পর পরের লাইন পড়ে আগের লাইনে কি পড়লাম সেটা আর মনে পড়ে না। অনেকেই চিন্তা করে মনে না পড়ুক অসুবিধা নাই, তারপরেও পড়া থামানো যাবে না। অন্তত সব একবার হলেও সবকিছু পড়ে শেষ করতে হবেই।

কিন্তু কেউ একবারো চিন্তা করে না যে এতে লাভ টা কি? আদৌও কি কোনো উপকার হচ্ছে? হ্যাঁ, আমি যাই বলি না কেনো আর যত যুক্তিই দিই না কেনো পরীক্ষার আগের রাতে পড়ার এই ট্রেন্ড কখনোই পরিবর্তন হবে না। এমনটা হয়ে আসছে আর এমনটাই চলতে থাকবে জানি। অন্যদের কি বলবো, আমি নিজেই নিজেকে এ পর্যন্ত এই কাজ থেকে বিরত রাখতে পারি নি। তবে হ্যাঁ, কিছুই যে করতে পারি নি এমন না কিন্তু। আবার আমি যে পরীক্ষার রাতে একেবারেই কিছু পড়তে নিষেধ করছি তাও না।এমনটা দেখা যায় এই পড়াটাই অন্যসময়ের চেয়ে বেশি কাজে লাগে। তাহলে কি পড়বো কি পড়বো না?

আমি যেটা বলছি সেটা হলো পড়ো কিন্তু নতুন কিছু না। পরীক্ষার রাতের পড়া হবে শুধু আগের পড়ে রাখা বিষয়গুলো, সহজ ভাষায় রিভাইজ দেয়া। আগেই টুকটাক ছোট খাটো নোট বানিয়ে রাখো। নোট বানাতে অসুবিধা হলে এই প্লান্টলেটের একাডেমিক পোস্টগুলো ফেসবুকের পোস্ট মনে করে মাঝে মাঝে সময় পেলেই দেখো। কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে নতুন কিছু পড়ে, সরি নতুন লোড দিয়ে তোমার জেনারেটর গরম করে খুব যে একটা বেশি লাভবান হওয়া যাবে না সেটা আগেই বলেছি।

সো, সঠিক উপায়ে পরীক্ষার আগের রাতের পড়ার শুভ কামনা রইলো। সবার পরীক্ষা ভালো হোক এই বলেই আজকের পোস্টের ইতি টানলাম।

2 4 votes
Article Rating

About Md. Siddiq Hasan

Md. Siddiq Hasan
Wants to live in the Nature where every living being is known to me...

Check Also

Biodiversity: The Variability of Life- part II

Early and modern conceptual history of Biodiversity earth’s biodiversity – central theme in natural science. …

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x