গাছকে আমরা কতটুকু জানি ?

 

মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে এই শ্রেষ্ঠ জীবনটিই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। আমাদের চারপাশের পরিবেশে দৃষ্টিপাত করলে দেখতে পাব যে, কতই না বিচিত্র আমাদের চারপাশের প্রানিকুল। মানুষের কথাই ভাবি, কেউ কেউ কটূক্তি করলে বা আঘাত করলে আমরা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে যাই কিন্তু গাছ? আপনার যদি ইচ্ছে হয় গাছের একটি বাঁকল বা পাতা অনায়াসেই ছিঁড়তে পারবেন বিনিময়ে প্রতিশোধস্বরূপ গাছ কখনই আপনার জন্য অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করবেনা বা তার ছায়ার আশ্রয় থেকে আপনাকে বঞ্চিত করবেনা উপরন্তু নিজের ভিতরে সঞ্চিত ঔষধি গুনাবলির মাধ্যমে আপনার, আমা্‌র, আমাদের জীবনকে বাঁচিয়ে তুলবে। হ্যাঁ গাছের  আমাদের পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি এমন অনেক ঔষধি গুনাবলি আছে যা আমাদের অনেকেরই অজানা। ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে আমরা এখন প্রযুক্তিনির্ভর কিন্তু আমরা জানিনা এই প্রযুক্তিনির্ভর ঔষুধের  চেয়ে গাছের ঔষুধি গুন কতটাই না কার্যকর আর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন।

আমাদের পূর্বপুরুষেরা গাছের ওষধি গুনাবলির উপর নির্ভরশীল ছিলেন। তাদের ভিতরে গাছসম্পর্কিত জ্ঞান এখনও আমাদের অজানা এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত আদৌ সেই জ্ঞান পৌঁছাতে পারবে কিনা সন্দেহ। বর্তমানে অনেক উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন, তাই তারা উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ জাগানোর জন্য একটি বিশাল প্লাটফর্ম তৈরী করছে। কয়েকদিন আগেই ২৬ জানুয়ারি ২০১৯ বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত বাংলাদেশে বোটানি অলিম্পিয়াড ২০১৮ আয়োজিত হয়েছিল যেটির মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষ বোটানিস্ট তৈরি করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এবং এই অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ডক্টর জসীম উদ্দিন স্যার বলেছেন, “বর্তমান শতাব্দী হচ্ছে জীববিজ্ঞানের উন্নয়নের যুগ, একজন দক্ষ বোটানিস্ট তৈরির মাধ্যমে আমাদের চারপাশের পরিবেশগত সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে উদ্ভিদ বিজ্ঞানিদের আবিষ্কৃত জ্ঞানভিত্তিক নানা কৌশল কাজে লাগাতে হবে।” আরেকজন জীবন্ত কিংবদন্তী প্রফেসর ডক্টর আবুল হাসান স্যার যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকতা জীবনে অবদান রেখেছে হাজারও ভেষজ উদ্ভিদের আবিষ্কার ও সংরক্ষণে। এমন অনেক উদ্ভিদ আছে যাদের নাম সম্পর্কেই আমরা অনেকেই জ্ঞাত নই । সেই উদ্ভিদগুলোর পরিচয় সংরক্ষিত হয়েছে হাজারও বোটানিস্টদের অবদানের ফলে ।

বর্তমানে হৃদরোগ একটি উদ্বেগের বিষয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (২০০৩) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর ১৬.৭ মিলিয়ন মানুষ শুধুমাত্র হৃদরোগের ঝুঁকিতে মারা যায়। যেটির শতকরা হার ১৯৯০ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ২৮.৯% থেকে ৩৬.৩% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাবে, তাই বর্তমান বিশ্বে এটির নিরাময় অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে । উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের অবদানের ফলে খুঁজে পাওয়া কিছু সহজলভ্য ঔষুধি গাছের পরিচয়, রাসায়নিক উপাদান, উপযোগিতা ব্যবহার তুলে ধরা হল, যেগুলো হৃদরোগ, রক্তচাপ, এমনকি রক্তের কোলেস্টরল কমানো থেকে শুরু করে নানা রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় ।

 

১। নামঃ বাসক

বৈজ্ঞানিক নামঃ Adhatoda zeylanica Nees

ফ্যামিলিঃ Acanthaceae

রাসায়নিক উপাদানঃ পাতায় পাওয়া যায়, কুইনাজোলিন, ভ্যাসিসিনোন, অ্যাডাটোডিন, ভ্যাসিকোলিনোন, ভ্যাসিকোলিন, সিকোলিনিন,ভ্যাসিসিনিন, এল ভ্যাসিসিন, এল ভ্যাসিকল, ভ্যাসিসিনল, অ্যানিসোটিন, অ্যাডাটোডিকঅ্যাসিড, বিটেইন, ভ্যাসিসিন, ট্রাইকিয়াকন্টেন, বিটাসিটাস্টেরল, ভিটামিন সি।

মুলে আছে ভ্যাসিসিন, ভ্যাসিসিনলআছে, ভ্যাসিসিন, ভ্যাসিসিনিন, কেম্পফেরল, কুয়েরসিটিন, আলফাঅ্যামিরিন, বিটাসিটোস্টেরল, বীজেআছে, অ্যারাকাইডিক, বিহেনিক, লিগ্নোসেরিক, সেরোটিক, অলিক এবং লাইনোলেয়িক এসিড।

রোগ প্রতিষেধকঃ পাতা কাশি, ব্রনকোডাইলেটর, হাইপোগ্লাইসেমিক প্রতিরোধ করে । মূল ও বাকল, হাপানি,ব্রঙ্কাইটিস,নিউমোনিয়া,যক্ষ্মা রোধ করে।পাতার অ্যালকোহল,হাইপোটেন্সিভ,কার্ডিয়াক ডিপ্রেসেন্ট, ব্রনকোডায়াল্ট রোগে ব্যবহার হয় ।

 

২। নামঃ বেল

বৈজ্ঞানিক নামঃ Aegle marmelos (L) Corr.

ফ্যামিলিঃ Rutaceae

রাসায়নিক উপাদানঃ ফলের শাঁসে থাকে ডি আলফা ফেলানড্রিন, মারমেসিন, স্কোপোলেটিন, ট্যানিন, মিথাইলহালফোরডিনল, আইসোপেন্টাইলিহালফোরডিনল, অ্যালোইম্পেরাটোনিন, বিটাসিটোস্টেরল, অ্যাম্বেলিফেরোন, জ্যান্থোটক্সল, স্কোপারন, আইসোইম্পেরাটরিন।

পাতায় থাকে, মারমেলোসিন, সিটোস্টেরল, বিটা সিটোস্টেরল গুকোসাইড, অ্যাম্বেলিফেরন, অরাপ্টেন, মারমিন, লিউপিয়ল, কমারিন, ইয়েজিলিনিন, ইয়াজোলিন, মারমেসিনিন, কমারিন, লুপেয়ল, সিটোস্টেরল, বিটা সিটোস্টের্‌ল গুকোসাইড। বাঁকলে থাকে বিটা সিটোস্টের্‌ল, অ্যাম্বেলিফেরোন, অরাপ্টেন, মারমিন, লিউপিয়ল, কমারিন, ইয়েজিলিন, স্কিমিয়েনিন এবং মারমেসিন।

মূলে আছে জ্যান্থোটক্সিন, স্কোপারন, স্কোপোলেটিন, টেম্বামাইড, মারমেসিন, মারমিন, হ্যাপ্লোপাইন।

রোগ প্রতিষেধকঃ  ফল, কৌষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয়, পৌষ্ঠনালীর প্রদাহ,ডায়রিয়ায় কাজ করে। পাতা, জ্বর,এ্যাবসেস রোগে। মুলের বাঁকল রক্তের চিনি কমায়, হৃদপিণ্ড ও পেটের ব্যাথা নিরাময় করে ।

৩। নামঃ পেঁয়াজ

বৈজ্ঞানিক নামঃ Allium cepa L.

ফ্যামিলিঃ Liliaceae

রাসায়নিক উপাদানঃ পেঁয়াজে আছে  মনো,ডাই, ট্রাই এবং টেট্রা সালফাইড, থায়োল এবং থায়োফেন ডেরিভেটিভস, পলিফেনল, কেম্পফেরল, ভিটামিন বি ও সি, স্যাপোনিন, বিটা অ্যামিরিন, স্টেরল, ফেনোলিক এসিড এবং খনিজ পদার্থ, সায়ানিডিন গ্লাইকোসাইড। শল্কপত্রে থাকে কুয়েরসিটিন,ফ্লাভোনয়েড, স্টেরল, ক্যাটেচল,প্রটোক্যাটেচুয়িক এসিড এবং ফেনলিক যৌগ।

রোগ প্রতিষেধকঃ পেঁয়াজের রস ম্যালেরিয়া,বাত, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টরল কমানো, ব্যাথা, স্কার্ভি,সারকুলার অ্যালোপেসিয়াতে এটি কাজ করে।

৪। নামঃ রসুন

বৈজ্ঞানিক নামঃ Allium sativum L.

ফ্যামিলিঃ Liliaceae

রাসায়নিক উপাদানঃ রসুনে ডাইসালফাইড, ডাইঅ্যালাইল ডাইসালফাইড,পলিসালফাই্‌ড,ডাইমিথাইল ডাইসালফাইড, অ্যালিসিন,অ্যালিন,সাইক্লোঅ্যালিন,অ্যাজোইন,অ্যালিসেটিন ১ এবং ২ এবং স্যাটিভিন্স, এতে আছে এন্থোসায়ানিন,প্রোটিন,কার্বোহাইড্রেট,স্যাপোনিন ও স্টেরল।

রোগ প্রতিষেধকঃ কোলেস্টরল ও চিনির কমায়,রক্তচাপ কমায়, হৃদপিণ্ড ও স্টোকের পরিমান কমায়।

৫। নামঃ ঘৃতকুমারী

বৈজ্ঞানিক নামঃ Aloe barbadensis Mill.

ফ্যামিলিঃ  Liliaceae

রাসায়নিক উপাদানঃ পাতায় আছে অ্যালোইন্স,অ্যাথ্রাকুইনোন,গ্লাইকোসাইড,ইমোডিন,অ্যালা ইমোডিন, ক্রাইসোফানোল,ক্রাইসোফানিক এসিড, স্টেরল, ট্রাইটারপিন, কমারিন,স্যাপোনিন, ইউরোনিক এসিড, অ্যামাইনো এসিড,ভিটামিন সি ও বি, এজাইম,সাইট্রিক এসিড ও ফরমিক এসিড ।

রোগ প্রতিষেধকঃ পাতার রস কৌষ্ঠকাঠিন্য, পেপ্টিক আলসার, ডায়াবেটিকস, জন্ডিস,পাইলস, চর্মরোগ ও হাঁপানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

৬। নামঃ কাজু বাদাম

বৈজ্ঞানিক নামঃ Anacardium occidentale L.

 ফ্যামিলিঃ Anacardiaceae

রাসায়নিক উপাদানঃ ফেনলিক যৌগ, অ্যানাকার্ডিয়াক এসিড, কারডলস,মিথাইল কারডলস, কারডানলস। ফলের আবরণে আছে গদ অ্যানাকারডিয়াক এসিড,তেল, অ্যালক্যাইল ফেনল,কারডল, সিরিনজিক, এবং গ্যালিক এসিড। পাতা ও ফুলে পলিফেনলস এবং বাঁকলে বিটা সিটোস্টেরল এবং ট্যানিন।

রোগ প্রতিষেধকঃবাঁকল উচ্চ রক্তচাপ , কুষ্ঠ,আলসার,বদহজম, ডায়রিয়া, আমাশয়ের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

৭। নামঃ কদম গাছ

বৈজ্ঞানিক নামঃ Anthocephalus chinensis (Lamk.) A. Rich.

ফ্যামিলিঃ Rubiaceae

রাসায়নিক উপাদানঃ পাতায়  কদম্বিন, গ্লাইকোসাইডাল, হেনট্রিয়ঙ্কন্টানল, বিটা সিটোস্টেরল। বাঁকলে সিঙ্কোটেনিক এসিডের মত উপাদান,কুইনোভিক,কদম্বাজেনিক, স্যাপোনিন্স, স্টেরয়েড, বিটা স্টেরল ।

রোগ প্রতিষেধকঃ বাঁকলের নির্যাস, ডায়াবেটিস রোধে , ম্যালেরিয়া জ্বর, রক্ত সঞ্চালন ও শক্তি যোগায়।

৮। নামঃ চালকুমড়া

বৈজ্ঞানিক নামঃ Benincasa hispida (Thunb.) Cogn.

ফ্যামিলিঃ Cucurbitaceae

রাসায়নিক উপাদানঃ এনট্রায়াকন্টাল,ম্যান্নিটল, র‍্যামনোজ,লিউপিয়ল,বিটা সিটোস্টেরল। স্যাপোনিন্স গুয়ারিডিন,পেন্টাসাইক্লিক ট্রাইটারপিন আইসোমাল্টিফ্লোরেনাইল অ্যাসিটেট পাওয়া যায়।

রোগ প্রতিষেধকঃ হিমোপ্টাইসিস, ক্যান্সাররোধী, যক্ষ্মা, টিউমার, কৌষ্ঠকাঠিন্য, হৃদরোগ চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়।

৯। নামঃ অড়হর

বৈজ্ঞানিক নামঃ Cajanus cajan (L.) Huth.

ফ্যামিলিঃ Papilionaceae

রাসায়নিক উপাদানঃ পাতায় আছে, ফাইটোঅ্যালেক্সিন,স্টেরল, ট্রাইটারপিন। মুলে আছে, আইসোফ্লাভোন, ক্যাজানোন, ক্যাজাফ্লাভোন, লিউপিয়ল, অ্যামিরিন। লাল রঙের পডে আছে, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন এ, বি,সি, ক্যারোটি্‌ অ্যামাইনো এসিড।

রোগ প্রতিষেধকঃ পাতার রস জন্ডিস,কাশি,ব্রঙ্কাইটিস,বমি। বীজ কুষ্ঠ, টিউমার ও হৃদরোগ এ ব্যবহার করা হয়।

১০। নামঃ করমচা

বৈজ্ঞানিক নামঃ Carissa congesta Wight

ফ্যামিলিঃ Apocynaceae

রাসায়নিকউপাদানঃ মূলেআছে,ক্যারিসোন,বিটা সিটোস্টেরোল,ট্রাইটারপিন,ক্যারিন্ডোন,লিগনান,ক্যারিনল, গ্লকোসাইড, অডোরিসাইড এইচ।ফলে আছে, অ্যাস্করবিক,স্যালিসাইলিক এসিড, টারপিনয়েড, স্টেরোয়েডাল গ্লুকোসাইড।

রোগ প্রতিষেধকঃ মুলের বাঁকল,ডায়াবেটিক, রক্তচাপ,কারডিওটনিক, আলসারে উপকারী।

১১। নামঃ নয়নতারা

বৈজ্ঞানিক নামঃ Catharanthus roseus (L.) G. Don

ফ্যামিলিঃ Apocynaceae

রাসায়নিকউপাদানঃ ভিনব্লাস্টিন,ভিনক্রিস্টিন,ভিনলিউরোসিন,ভিনরোসিডিন,ভিনকারোডিন,ভিনকোলিন,ভিনক্যাথিসিন,ভিনকিউবিন,ভিনঅ্যামিডিন,সেকোইরিডয়ে গ্লুকোসাইড,মনোটারপিন গ্লাইকোসাইড, বিটা সিটোস্টেরল,আরসোলিক, লগানিক,অলিনোলিক এসিড।

রোগ প্রতিষেধকঃ ক্যান্সার,লিউকোমিয়া,হজকিন,উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ঋতুস্রাব।

১২নামঃ ছোলা

বৈজ্ঞানিক নামঃ Cicer arietinum L.

ফ্যামিলিঃ Papilionaceae

রাসায়নিক উপাদানঃ বীজে আছে ফ্ল্যাভোন, আইসো ফ্ল্যাভোন, অক্সালিক, এসিটিক, ম্যালিক এসিড,  অ্যাামাইনো এসিড, আলফা গ্যালাক্টোসাইডেজ, ভিটামিন এ,ডি,ই, লেসিথিন, ফাইটিন, স্যাপোনিন, কেম্পফেরল, কুয়েরসেটিন, আইসো র‍্যাম্নেটিন, প্যাটেন্সেইন, ফাইটোঅ্যালেক্সিন, সিসেরিন, স্টেরোয়েডাল পদার্থ।

মুলে আছে মেডিকাগল এবং ১২ অক্সি মিথাইল কমেস্টেরল।

রোগ প্রতিষেধকঃ হাইপোকোলেস্টেরোলেমিক ক্রিয়া, গনোরিয়া, ঋতুস্রাব, আমাশয় ও হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহিত হয়।

১৩নামঃ বাতাবী লেবু

বৈজ্ঞানিক নামঃ Citrus grandis (L.) Osbeck

ফ্যামিলিঃ Rutaceae

রাসায়নিক উপাদানঃ ফলের রসে অ্যাসকরবিক,সাইট্রিক এসিড, খোসায় আছে, ডি লিমোনিন, আলফা পিনেনি, লিনালোল, জিরানিয়োল, ফ্ল্যাভোনয়েড, কমারিন, ট্রাইটারপিন, ক্যারোটিন, পেক্টিন, নোবিলিটিন, হেস্পেরিডিন, নারিনজিন। ফলের রস আর বীজে আছে, লিমোনিন, নোমিলিন, ওবাকিউনোন, লিমোনয়েড গ্লাইকোসাইড।

রোগ প্রতিষেধকঃ ফলের রস কারডিওটনিক, ইনফ্লুয়েঞ্জা, কাশির চিকিৎসায় ব্যবহার হয়।

 

১৪নামঃ কাগজী লেবু

বৈজ্ঞানিক নামঃ Citrus limon (L.) Burn. F.

ফ্যামিলিঃ Rutaceae

রাসায়নিক উপাদানঃ অ্যাসকরবিক, সাইট্রিক এসিড, ম্যালিক এসিড, ফলের খোসায় লিমোনিন, আলফা টারপিনিন, আলফা পিনিন, বিটা পিনিন, সাইট্রাল এবং বিটা অক্সিমিন। ফলের খোসায় বাইফ্ল্যাভোনয়েড, কমারিন, ভিটামিনএ,বি১,বি২, লিমোসাইট্রোল, ট্যানঞ্জেরিটিন, ন্যারিনজিন, বারগামোটিন, কমারিন, বিটা সিটোস্টেরল, বীজে আছে, ওবাকিউনোন, লিমোনিন।

মুলে আছে জ্যাথিলেটিন, স্টিগ্মাস্টেরল, বিটা সিটোস্টেরল।

রোগপ্রতিষেধকঃ সর্দি, কাশি, রক্তসঞ্চালন, আরটেরিওস্ক্লেরোসিস,  অ্যান্টিসেপ্টিক, অ্যান্টিরিউমাটিক, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ব্যবহিত হয়।

১৫নামঃ নারকেল

বৈজ্ঞানিক নামঃ Cocos nucifera L.

ফ্যামিলিঃ Arecaceae

রাসায়নিক উপাদানঃবীজে আছে, টোকোফেরল, ট্রাইটারপিন অ্যালকোহল, স্টেরল, মিথাইল স্টেরল।  পানিতে আছে গ্যালাক্টোম্যানান,লিগনিন সুগার, পটাসিয়াম,তেল এ আছে ক্যাপ্রোয়িক, ক্যাপ্রিলিক,  লরিক, মাইরিস্টিক, ট্রাইডেক্যানোয়িক, অ্যান্ডেকানোয়িক, ট্রাইটারপিন অ্যালকোহল, স্টেরল, মিথাইল স্টেরল।

রোগ প্রতিষেধকঃ কলেরা, ডায়রিয়া,আমাশয়। শাঁসে আছে অ্যান্টিবায়োটিক ধর্ম। তেল গ্লাইকোজেনের মাত্রা বাড়ায়।

১৬ নামঃ গাঁজর

বৈজ্ঞানিক নামঃ Daucus carota L.

ফ্যামিলিঃUmbelliferae

রাসায়নিক উপাদানঃ পাইরোলিডিন, ফ্ল্যাভন, কমারিন, বিটা ক্যারোটিন, ল্যাক্টিক, লিউটিওলিন, ৭ গ্লুকোসাইড, ফেরুলিক, ক্যাফেয়িক, ক্লোরোজেনিক এসিড। বীজে আছে বিটা সিটোস্টেরল, গ্লুকোজ ও অ্যামাইনো এসিড আছে।

রোগ প্রতিষেধকঃ বায়ুনাশক, হজম বৃদ্ধি, পাইলস, হাপানি, ব্রঙ্কাইটিস, জন্ডিস, প্লীহা, কিডনী, কারডি ওটনিক জটিলতায় ব্যবহার হয়।

0 0 vote
Article Rating

About Tahmina Sultana

Tahmina Sultana

Check Also

Economic Botany

This article is written using many tables and about hundred of pictures of plants. As, …

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x